আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার পর গ্রেফতার করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ।
আজ (২২ নভেম্বর) শনিবার তার আইনজীবী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। এ সময় মাসব্যাপী গৃহবন্দি ছিলেন। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ব্রাজিলের গণতন্ত্র আক্রমণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় দিয়েছিল। বলসোনারোর আইনজীবী সেলসো ভিলার্দি গ্রেপ্তারের কারণ জানাননি। ফেডারেল পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে বলসোনারোকে শনিবার সকালে ব্রাসিলিয়ায় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে, ডানপন্থি সাবেক এই নেতাকে গত সেপ্টেম্বর ২৭ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০২৩ সালে লুলাকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধা দেয়ার পরিকল্পনার নেতৃত্বদানকারী এবং প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে বলসোনারোকে চিহ্নিত করা হয়। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ওই মামলায় এখনো তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি।
১০০ দিনেরও বেশি সময় পৃথক একটি মামলায় সতর্কতামূলক শর্ত লঙ্ঘনের কারণে বলসোনারো কঠোর গৃহবন্দিত্বে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই মামলাকে ‘উইচ হান্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি এ মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মোরায়েসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং বেশ কয়েকটি ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ ভাগ শুল্ক বসান। সেই নির্দেশ তিনি এই মাসে প্রত্যাহার করা শুরু করেছেন। গৃহবন্দিত্বকালে বলসোনারোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও রাজনৈতিক মিত্ররা তাকে দেখতে গেছেন।
তার আইনজীবীরা বলছেন, নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তিনি যেন কারাদণ্ডটি গৃহবন্দিত্বেই ভোগ করতে পারেন- এ অনুমতির জন্য তারা আবেদন করবেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় এক জনসভায় তিনি পেটে ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট নানা অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের ইতিহাস রয়েছে।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পেতে পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।
Leave a Reply