• অপরাধ

    দুুর্নীতির অভিযোগে বদলী, বদলীর জায়গায় দুর্নীতি!

      প্রতিনিধি ৯ জানুয়ারি ২০২৩ , ৪:৩৭:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    শরীফ হায়দার শিবলু: সব ম্যানেজ করে ফেলেছি এমন দাম্ভিকতার সহিত নিজের কর্মস্থলে হুমকির সুরে বলে বেড়াচ্ছেন দুর্নীতির অভিযোগে বদলী হওয়ারপ পর বদলীর জায়গায় ও দুর্নীতিতে জড়িত বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) বিভাগের সিআই আমান উল্লাহ!

    বর্তমানে সিআই আমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি আমানকে দোষী সাব্যস্ত করে দাখিল করা প্রতিবেদনের কপি মুক্ত আকাশ ২৪.কমের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    অনুসন্ধানে জানাযায়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী  মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার সরকারি বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার সুবাধে সারাদেশের সাথে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বটতলী স্টেশন নিরাপত্তা বাহিনীর সিআই আমান সম্পূর্ণ অফিসিয়াল নিয়মবহির্ভূত ভাবে বেশীরভাগ (আরএনবি) সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার জন্য ছুটি প্রদান করেন!

    আমানের এসব অপরাধের অভিযোগটি ২৪শে এপ্রিল ২০২০ সালে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে আসার পর আমানের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কতৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

    তদন্ত কমিটি সিআই আমান অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ার পর শাস্তিমুলুক ব্যবস্থা না নিয়ে আমানকে সিজিপি ওয়াইতে বদলী করা হয়। কিন্তু রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্নীতিতে অপ্রতিরোধ্য সিআই আমান বদলী হওয়া জায়গায় আরও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন!

    অন্যদিকে রেল মন্ত্রী ও সচিব  চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন কালে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিত্যাক্ত ৯নং বাংলোটি ২০১৫ সালে শর্তসাপেক্ষে সিলভার জুবলি লিমিটেডকে চুক্তি মোতাবেক ব্যাবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় চুক্তিটি বাতিলের পাশাপাশি উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় রেল মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক রেলওয়ে কতৃপক্ষ জায়গাটিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জায়গাটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    সিআই আমান বদলী হওয়া জায়গা সিজিপি ওয়াইতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রেল কতৃপক্ষের উচ্ছেদ কৃত জায়গাটি নিজের ক্ষমতাবলে পুনরায় হস্তান্তর করে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সিলভার জুবলি লিমিটেড থেকে। যা তদন্ত কমিটির একজন সদস্য এই তথ নিশ্চিত করেন।

    সিআই আমানের এসব দুর্নীতি ও কর্মস্থলে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি রেল কতৃপক্ষের নজরে এলে হালিশহর ট্রেনিং সেন্টারের রেক্টর মনিরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সিআই আমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে রেলওয়ে কতৃপক্ষ আরএনবি ঢাকা জোনের তৎকালীন এসি শহিদুল্লাকে প্রধান করে তিন সদস্যোর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন সদস্যের এই কমিটি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে সিআই আমান অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ায়, তার বিরুদ্ধে যথাযত শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) চীফ কমান্ড্যান্টের কাছে অভিযুক্ত সিআই আমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    দায়ীত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির বাহিরে সিআই আমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই! আমান তার কর্মস্থলে এতোটাই বেপরোয়া আচরন করে যে তার কোন অনিয়মের প্রতিবাদ  সিনিয়র আরএনবি কর্মকর্তা বা কেউ করলে তাদের গায়েও হাত তোলা সহ শারীরিক ভাবে লাঞ্চনা করতে পিছ পা হয়না আমান।

    নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য এই প্রতিবেদককে জানায়, আমান সাবেক সিটি মেয়র আ,জ,ম নাছির উদ্দীন ও উত্তর চটগ্রাম ৭ সংসদীয় আসনের সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসাবে পরিচয় দিয়ে রেল অঙ্গনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শারীরিক লাঞ্চনার পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সাবেক আরএনবির চীফ কমান্ড্যান্ট মরহুম ইকবাল হোসেনের সিআরবি কার্যালয়ে গিয়ে রেল কর্মচারীদের সামনে গায়ে হাত তোলে ও মারধরের ঘটনা ঘটায় আমান।

    সিআই আমান রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বিঘ্নে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাদিক আরএনবি সদস্য সহ বিভিন্ন রেল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে অভিযোগ করে বলেন, সিআই আমান একজন অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতিবাজ অফিসার তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই!

    সিআই আমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেও অদৃশ্য শক্তিরবলে ১ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের শাস্তি মুলুক ব্যাবস্থা নেওয়া তো দুরের কথা আমানকে পুনরায় অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে বদলী হওয়া বটতলী স্টেশনে আবারও পোস্টিং দেয় রেলওয়ে কতৃপক্ষ!

    সিআই আমানের এসব বেপরোয়া কার্যক্রমে (আরএনবি) সদস্যরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন কযেকজন আরএনবি সদস্য সহ বটতলী স্টেশন এলাকার ভাসমান দোকানীরা।

    অন্যদিকে আমানের অভিযোগ তদন্তকারী দল আমানের বিরুদ্বে দায়ীত্ব অবহেলা ও অনিয়মে জড়িত হওয়ার প্রমান পাওয়ায় আরএনবির চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম (পুর্বকে) গত ২-১১-২০২১ইং তারিখে আমানের বিরুদ্বে প্রয়োজনী শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা নিতে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    সিআই আমানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগটির ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে (আরএনবি) সদস্য সিআই আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি অনিয়মের তথ্য প্রমানসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) চীফ কমান্ড্যান্ট বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন সিআই আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি?

    এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্ত আকাশ ২৪.কমকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জিএম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরেও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী চীফ কমান্ড্যান্ট থেকে যেনে নিয়ে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জিএম জাহাঙ্গীর আলমকে (পূর্বকে) আমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জিএম কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম জাহাঙ্গীর আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি এখনো পর্যন্ত অবগত নই তারপরেও  আপনার থেকে শুনে বিষয়টি নিয়ে আমি অফিসে গিয়ে তারিখ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখে আমার কার্যালয়ের অধিনে আমানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া এখতিয়ার থাকলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

    কেন সরকারি দপ্তরে অনিয়মে জড়িত একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশ্নের উত্তর জানতে চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামকে একাধিকবার সরকারী অফিসিয়ালি (০১৭১১৫০৬১২৪) মুঠো ফোনে কল ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসএমএস দেওয়ার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করা বা এসএমএস সহ কোন ধরনের রিপ্লাই দেয়নি!

    উল্টো চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের ফোন নাম্বার সিআই আমানকে দিয়ে চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি জানিয়ে দেয়। এর পর সিআই আমান বিভিন্ন লোক মাধ্যমে এই প্রতিবেদকের ফোন নাম্বারে কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এবং যেকোন ভাবে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

    উল্লেখ্য, রেলওয়ের এসব অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গত ২৬,শে ডিসেম্বর দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে রেলের সম্পদের অপব্যবহার: দোষীকে শাস্তির বদলে (পুরস্কার) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও আমানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কতৃপক্ষ!

    আরও খবর 65

    Sponsered content