• ইসলামী জীবন

    মহানবীর উম্মত হতে হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আপনাকে আদায় করতে হবে

      প্রতিনিধি ১ মে ২০২৪ , ৫:৫২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

    ইসলামী ডেস্ক: নামাজ কেন পড়বেন ? কারন আপনি মুসলিম হতে হলে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) দেখিয়ে যাওয়া নির্দেশনা গুলো সঠিক ভাবে মেনে চললেই আপনি একজন সঠিক মুসলমান হতে পারবেন।

    আর মহানবীর উম্মত হতে হলে  আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) উনার জীবনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।

    মানুষ স্বভাবগতভাবেই বড্ড অনুকরণপ্রিয়। জন্মলগ্ন থেকেই শিশু অনুকরণ করে তার পিতা মাতাকে। একটু বড় হলে অনুকরণ করে তার খেলার সাথী বা বন্ধু বান্ধবকে। আরো বড় হলে জীবন চলার পথে অনুকরণ করে পছন্দের কোন মানুষকে। এই অনুকরণ-অনুসরণ, একটি মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই তার স্বভাব বহন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো, সত্যিকারার্থে এমন মানুষ আছে কি? যিনি মানুষের জন্য অনুকরণীয়-অনুসরণীয় হতে পারেন।

    হ্যাঁ, আছেন। তিনি হলেন আমাদের বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)। মহান আল্লাহ নবীজিকে নিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত। (সূরা ২৪ আন-নূর, আয়াত ৫৬)

    নবীজির জীবনের আংশিক ঘটনা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

    হাদীস শরীফে ইরশাদ রয়েছে, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেন, তোমাদের মাঝে কেহ (পূর্ণ) ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হব।

    পারিভাষিক অর্থে সিরাত অর্থ জীবনী বা ইরড়মৎধঢ়যু। তবে সীরাত বলতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জীবনীই বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর জীবনে যা কিছু ঘটেছে, তার সাথে সম্পৃক্ত, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তার সকল দিক, চারিত্রিক দিক, পারিবারিক জীবন, সামরিক জীবন, এককথায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর সকল দিক সীরাতের অন্তর্ভুক্ত। সীরাতের অধ্যয়ন একটি উত্তম আমল বা সাওয়াবের কাজ, সিরাত পাঠ মুমিনের ঈমানকে মজবুত করে, সিরাত অধ্যয়ন কোরআন বোঝার জন্য সহায়ক, সিরাত অধ্যয়ন হাদীস বোঝার জন্যও সহায়ক, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জীবন মুমিনদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ বা নমুনা। তাই সিরাত পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

    বিশ্ব নবীর (সাঃ) জন্ম:

    সায়্যিদুনা ওয়া সায়্যিদুল মুরসালীনা ওয়ানা নবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)- এর পবিত্র জন্ম হয় আরবী মাসের রবিউল আউয়াল মাসে ১২ তারিখ সোমবার জন্ম গ্রহণ করেন।

    মহানবীর জন্মের কয়েক মাস আগে পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। নিজের দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর না রাখেন ‘মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব’। মমতাময়ী মা হযরত আমেনার পক্ষ থেকে তাঁর নাম রাখা হয় ‘আহমদ’। নিজ মাতা এবং আবু লাহাবের আযাদকৃত বাঁদী সুওয়াইবাহ (রাঃ) কিছুদিন তাঁকে দুগ্ধ পান করান। এরপর কুরাইশ বংশের ঐতিহ্য অনুযায়ী হযরত হালিমা সাদিয়া (রাঃ) – কে দুগ্ধপান ও লালন পালনে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    চার বছর বয়সে শক্কে সদর: তথা বক্ষ বির্দীর্ণ করার ঘটনা সংঘটিত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, শক্কে সদরের ঘটনা চারবার সংঘটিত হয়েছে।

    ৬ বছর বয়সে মাতার বিয়োগ: রাসূল (সাঃ)- এর মাতা হযরত আমেনার ইন্তেকাল হয়। আবওয়া নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। (শরহুল মাওয়াহেব লিয যারকানী ১/১৬০)।

    ৭ বছর বয়স: থেকে তিনি দাদা আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে লালিত হন।

    ৮ বছর বয়সে: দাদা ইন্তেকাল হয়। এর পর থেকে চাচা আবু তালেবের হাতে লালিত হন। (তবকাতে ইবনে সাআদ ১/৭৪)।

    ১২ বছর বয়সে সিরিয়া গমন: চাচার সাথে সিরিয়ার ব্যবসায়িক সফরের সঙ্গী হন। এই সফরে বুহাইরা রাহের তাঁর নবুওয়াতের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। (আল খাসায়েসুল কুবরা ১/৮৪)। মতান্তরে ১৪/১৫/২০ বছর বয়সেঃ আরবে ফুজার যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আপন কোন কোন চাচার পীড়াপীড়িতে রাসূল (সাঃ) অংশ নেন। কিন্তু কেতালে অংশগ্রহণ করেননি।

    ১৬ বছর বয়সে সামাজিক সংগঠন: মক্কাবাসীর (পাঁচ বংশীয় চুক্তি) হিলফুল ফুজুল নামের চুক্তিতে অংশগ্রহন করেন।

    ২৫ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধন: রাসূল (সাঃ) হযরত খাদিজা (রাঃ) – এর ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে সিরিয়ার দ্বিতীয় সফর করেন। এই সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের কিছুদিন পর তাঁর সততা ও নিষ্ঠা এবং ব্যবসায়িক মুনাফা অবলোকন করে হযরত খাদিজা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) – এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    ৪০ বছর বয়সে নবুয়ওত লাভ:

    তিনি বেশির ভাগ সময় হেরাগুহাতেই ব্যয় করেছেন। এখানেই তাঁকে নবুওয়াতের তাজ পরানো হয়।

    নবুওয়াতের প্রথম বছর: তাঁর ওপর সূরায়ে আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (শরহুল মাওয়াহিব ১/২০৭) ঐতাহাসিকদের ঐক্যমত হলো নবুওয়াত দান করা হয়েছে রবিবার। কিন্তু মাসের ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের ভিন্ন মত রয়েছে।

    ইবনে আব্দুল বার (রহ.)- এর মতে ৮ রবিউল আউয়াল তাঁকে নবুওয়াতের তাজ পরানো হয়। এই মতানুযায়ী নবুওয়াতপ্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। কিন্তু ইবনে ইসহাকের মত হলো তাঁকে ১৭ রমযান নবুওয়াত দানে ভূষিত করা হয়। এই মতানুযায়ী তখন তাঁর বয়স হয় চল্লিশ বছর ছয় মাস। হযরত ইবনে হাজার আসকলানী (রহ.) এই মতকেই প্রধান্য দিয়েছেন।

    এছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ)  আরও বহুবার মহান সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে নবুয়ত গ্রহন করেন।

    পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।