রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলির পর, এবার বদলি করা হয়েছে খুলনায়! বরগুনায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজির প্রতিবাদে প্রথমে মানববন্ধন, এর পর হামলা! ভারতে ইসির পদত্যাগের দাবীর আন্দোলন ফুঁসে উঠেছে, বিরোধী দলের প্রথম সারির নেতাদের আটক আগামী রমজানে খাদ্যপণ্য সরবরাহে কোন সমস্যা হবেনা: খাদ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৪ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ১৬৩১ দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের চলছে ব্যাপক সংঘর্ষ, মমতা, অভিজিৎ সহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা: মুশফিক তেলাপোকা পার্টির বিক্ষোভকে ঘিরে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, ব্যাপক ধরপাকড় আমি গ্রেপ্তারের জন্য প্রস্তুত,ককরোচ পার্টির নেতা অভিজিৎ গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ১ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ১৩০০

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা: মুশফিক

মুক্ত আকাশ ডেস্ক / ৩৬ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কঠিন করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

গতকাল (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার নতুন বই ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র–চীন ও চীন–ভারত ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।

অনুষ্ঠানে প‍্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক, সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরোম সি. গ্লেন এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিসের সঞ্চালনায় বইটির লেখক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারাসহ সাংবাদিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট অতিথিরা আলোচনায় অংশ নেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, “বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ভারতকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তোলে।”

তিনি বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব একটি দেশের জনগণের সঙ্গে গড়ে তুলতে হয়, সেই সম্পর্ক কোনো একজন নেতা বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে আনসারী বলেন, এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মানুষ চায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কণ্ঠস্বর ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক।

বাংলাদেশের প্রতি চীনের সহযোগিতামূলক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে এই অংশীদারত্বকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক লালগালিচা অভ্যর্থনাকে সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্বের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বড় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে; দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্কেও একই মনোভাব প্রয়োজন।

আনসারী বলেন, “আমি ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্প্রসারণের পক্ষে। তবে সেই বন্ধুত্ব হতে হবে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে। নিজ জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাংলাদেশের থাকতে হবে।

মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাশিয়াও এ অঞ্চলে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার গভীর জ্বালানি সম্পর্ক এবং পাকিস্তান ও নেপালের জ্বালানি খাতে দেশটির সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার প্রতি সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন কোনো রাষ্ট্র নেই। ভারতের বাইরেও এ অঞ্চলে মস্কোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পেতে পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন। 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...