শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট: মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে বিরাজমান ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই গুরুত্ব আরোপ করেন।
আজ (৯ অক্টোবর) শুক্রবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল দৃশ্যত নীরোগ বা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখাই স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত অবস্থাই হলো প্রকৃত স্বাস্থ্য। ফলে কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা বা উপেক্ষা করার অবকাশ নেই।
মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসার বিষয় না রেখে এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে অবহেলা না করে তাঁর কথা শোনা, সহানুভূতি নিয়ে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সুগম করার ওপর তিনি জোর দেন। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য তুলে ধরে তিনি জানান, যারা এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।
তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের বিষয়টিও বাণীতে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেলি-কাউন্সেলিং সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালে পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া গর্ভবতী মা, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক সেবা জোরদারে সরকার বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের আরও আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়, যেখানে মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বা লজ্জা বোধ করবে না।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পেতে পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...