বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকার অভিযানে গ্রেফতার ৫১৮ খুলশীর বিশেষ অভিযানে চোরাই মোটর সাইকেল ও পুলিশ সদস্য সহ গ্রেফতার ৪ মাগুরায় পৌর যুবদলের আহ্বায়ককে গুলি করে হত্যা সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থানের প্রধান টার্গেটে, ১৭ বছর রাজপথের ত্যাগীরা! মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের বাসার অভিযানে মাদক সহ গ্রেফতার ৮৪ জ্বালানি সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে ২ বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইসলামে হিন্দুধর্মের উৎসব ও আমাদের তরুণ সমাজ গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫৪৮ সৌদি আরবে নিয়মিত হুতি বিদ্রোহীর হামলায় ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল

সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থানের প্রধান টার্গেটে, ১৭ বছর রাজপথের ত্যাগীরা!

মুক্ত আকাশ ডেস্ক / ৩৪৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

শরীফ হায়দার শিবলু : দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, পুলিশের টিয়ারশেল, নির্বিচার গুলিবর্ষণ, গায়েবি মামলা আর অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠের দুঃসহ দিনগুলোতে যারা বুক চিতিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজ ক্ষমতায় বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, তখন ধারাবাহিকভাবে বিএনপি ও দলের রাজপথের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, নির্যাতিত কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল মাঠ কর্মীদের নানা কৌশলে ফ্রেমিং ও ন্যারেটিভ তৈরি করে বিতর্কিত করা হচ্ছে। আর তাদের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বসন্তের কোকিলেরা।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের এক পাশে সরিয়ে রেখে সুবিধাবাদী, সাবেক আমলা ও হাইব্রিড রাজনীতিকদের ও ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুনর্বাসন করতে হাইব্রিডদের টার্গেট আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের! যা  চলছে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগোচরে।

গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে মাঠের ত্যাগিদের অনেকে নেতাকর্মী অপমান লাঞ্চিত হচ্ছে ৫ আগষ্টের পর।

সারাদেশে গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে মাঠের ত্যাগিদের অনেকে নেতাকর্মী অপমান লাঞ্চিত হচ্ছে ৫ আগষ্টের পর বিএনপিতে আবির্ভাব ঘটা হাইব্রিডদের হাতে!  এসব ঘটনা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও জেলা বা মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ নিজেদের গ্রুপিংটা গুরুত্ব দিয়ে ত্যাগিদের সকল অপমান লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে কর্ণপত ও করেনা!

অন্যদিকে  ১৭ বছর ত্যাগি ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের অল্প কিছুসংখ্যকের মধ্যে যারা সরকারে রয়েছেন তারাও অনেকটা কোণঠাসা। 

সুবিধাবাদী ও সরকারবিরোধীরা মিলেমিশে কৌশলে একেক জন ত্যাগী নেতাকে টার্গেট করে জামায়াত-এনসিপিসহ দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক বটবাহিনী, বেশ কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো হয় অপপ্রচার, তৈরি করা হয় বিশেষ ন্যারেটিভ। পরবর্তীতে সেটিকে ইস্যু বানিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের দূরে সরিয়ে দিতে।

বিশেষ করে ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতাদের পর্যায়ক্রমে করা হয়েছে বিতর্কিত। যার সর্বশেষ উদাহরণ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বার বার এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে ক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানালেও বড় একটি অংশই হতাশা থেকে হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়। তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মামলার মধ্যেও যারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন, তাদের যদি কোণঠাসা করে রাখা হয় তাহলে কর্মীরা কাজ করার উদ্দীপনা হারাবে। ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া দল শক্তিশালী হতে পারে না, আর দল শক্তিশালী না হলে সরকারও শক্তিশালী হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় এমপি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, নিঃস্ব হয়েছেন তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি।

আবার কিছু সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে এটি ত্যাগীদের জন্য হতাশার। এই হতাশা থেকে অনেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য দায়ী আমরাই। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে দল ও দেশ উপকৃত হবে।

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় ছাত্রদলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা। ছাত্রদলকে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের মতো একই বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে দখলবাজ-চাঁদাবাজ দল হিসেবে ফ্রেমিং করা হয় (যদিও কিছু কিছু জায়গায় যেসব অভিযোগ এসেছিল সাথে সাথে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়)।

বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসকে ফ্রেমিং করে মানসিক চাপে ফেলা হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বিএনপি সরকার, দল ও দলের নেতাদের টার্গেট করে চলছে এই ফ্রেমিং। বিরোধী জামায়াত-এনসিপি ও তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি একটি গ্রুপ, বিপুল সংখ্যক বটবাহিনী, কিছু গণমাধ্যম একত্রে টার্গেটকৃত নেতাদের ফ্রেমিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেন এবং সরকার ও দলকে চাপে ফেলে সেই নেতাকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেন। যার সর্বশেষ উদাহরণ- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

বিএনপি সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইশরাক হোসেন সেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন (যদিও প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আছে)। তখন তার উদ্দেশ্যের বিপরীতে প্রক্রিয়াটিকে হাইলাইট করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ঘটনা প্রসঙ্গে ইসলামি বক্তা ও জৈনপুরী দরবার শরীফের পীর মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, অসংখ্য দুর্নীতিবাজের ভিড়ে কিছু ভালো মানুষও আছে। কিন্তু ভালো মানুষ ভালো কাজ করতে গেলে আর পদ থাকে না।

তিনি বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, অবশ্যই এটা ঠিক। উদ্দেশ্য মহৎ ছিল কিন্তু পদ্ধতি ভুল ছিল। আবার সরকার এর দায় নিতে চায়নি।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সাংবাদিকরা এই ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করেনি। তারা প্রচার করেছে সে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এখানে সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিবাচক হতে পারতো। তারা যদি ইতিবাচক প্রচার করতো তাহলে সরকার কোনোদিনও বেকায়দায় পড়তো না। তিনি বলেন, এখন কি মাদকের বিরুদ্ধে কেউ নামবে?

গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে দৈনিক জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনি বলেন, কিছু গণমাধ্যম ১/১১’র সময় ফ্রেমিং করেছে। এরপর আমরা ফ্যাসিবাদী সরকার পেলাম। তারপরও তাদের কোনো শিক্ষা হয়নি। আবার সেটা শুরু করেছে। ইশরাকের ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে, ফ্রেমিং করে মূল ইস্যুকে আড়াল করা হয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগে ২৪’র আগস্টের পর থেকেই ঢাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের টার্গেট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রথমে মহানগর উত্তরের সাবেক নেতা সাইফুল আলম নিরব, এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবীন, উত্তরের আমিনুল হক, এম এ কাইয়ুম এবং সর্বশেষ ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তারা বলছেন, যারা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং নানা ফ্রেমিং করছে তারা দীর্ঘমেয়াদি টার্গেটে এসব করছে। বিশেষ করে সামনে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তখন একদিকে যেমন এসব ফ্রেমিংকে তারা কাজে লাগাবে অন্যদিকে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীকে নিষ্ক্রিয় করার রাজনৈতিক ফায়দাও উঠবে তাদের ঘরে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার যখন দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে, নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে তখন শুরু থেকেই একটি শ্রেণি নানাবিধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান। সেটি দল হোক কিংবা সরকার।

তবে দলের, বিগত ফ্যাসিবাদের রক্তচুক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথ থেকে জেল হাজতে ১৭ বছর সময় দিয়ে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সোনালি দিন গুলো নিয়ে আক্ষেপ না থাকলেও, ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে, দেশ ও জাতির মঙ্গলে ত্যাগিদের খুঁজে মূল্যায়ন না করলে, তার ফল ভোগ করতে হবে, দলের পাশাপাশি সরকার ও দেশ!

পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পেতে পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন। 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...